২২ ঘণ্টা পদ্মার পানি স্থির, তবু চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দী ৪৩৫০ পরিবার

ছবি সংগৃহীত 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:২৯

 জেলায় পদ্মা নদীর পানি ২২ ঘণ্টা ধরে স্থির থাকলেও দুর্ভোগ কমেনি নিম্নাঞ্চলের মানুষের। উল্টো মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতে পানি বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পাঙ্খা পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ সেন্টিমিটার পানি বাড়ে। এরপর থেকে পানি স্থিতিশীল রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে আর বাড়েনি। 

বর্তমানে পাঙ্খা পয়েন্টে পানির স্তর ২১.৭৯ মিটার, যা বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতে ৭ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে।

 জনদুর্ভোগ ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে রান্না, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ ঘরের ভেতর হাঁটুপানিতে বসবাস করছেন।

বন্যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষায়ও। জেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প স্থানে ক্লাস চালু করলেও বেশিরভাগই বন্ধ। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকা এবং যাতায়াতের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দী আব্দুল কাদের বলেন, _‘বাড়ির চারপাশে পানি, ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকেছে। ছোটদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

জাফর আলী বলেন, কাজকর্ম বন্ধ। সংসারে খাবারের সংকট।’ 

কুদ্দুস মিয়া বলেন, _‘পরিস্থিতি খারাপ হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে।’_

পানিবন্দী মানুষের জন্য ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় দুই দিন ধরে ত্রাণ বিতরণ চলছে। খাবার স্যালাইন ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা *মাজহারুল ইসলাম বলেন, _‘পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’_

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, _‘পদ্মার পানি স্থিতিশীল। আশা করা হচ্ছে আজকের পর থেকে পানি কমতে শুরু করবে।’


 

Post a Comment

0 Comments