অনলাইন ডেস্ক, Freedom News BD
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা: দিল্লিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লির চাণক্যনীতি ও রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কূটনৈতিক ও দৃঢ় অবস্থান সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক অনলাইন কনফারেন্সে দিল্লির মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিরোধী বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করেন। যদিও প্রচার করা হয়েছিল তিনি নতুন বার্তা দেবেন, তবে বাস্তবে পুরোনো বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায় লাইভ সম্প্রচার চলাকালেই বিপুলসংখ্যক দর্শক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
### চীন সফর ও দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং ৩০ কোটি ডলারের অনুদান সহায়তার ঘোষণা ভারতের নীতি-নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে ঢাকার অগ্রগতির পর ভারত ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ প্রসঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি অটল থাকবে।
ঢাকার কড়া বার্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
ভারতের মাটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানোর সুযোগ দেওয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তলব করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো— বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো দেশের পরনির্ভরশীল বা ক্লায়েন্ট স্টেট (অধীনস্থ রাষ্ট্র) হয়ে থাকবে না।
ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
*প্রত্যর্পণ চুক্তি উপেক্ষা: ২০১৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, উল্টো তাঁকে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সংগ্রামের অবমাননা: এই ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর।
সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক: বাংলাদেশ সবসময় সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী।
### দিল্লির সাফাই ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছেন, এই আয়োজনের পেছনে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ। তবে ঢাকার কূটনৈতিক মহল এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সরকারের মদদ ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে এমন আয়োজন অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তাঁর জাতীয় মর্যাদা নিয়ে কোনো আপস করবে না এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোন দিকে যাবে— সেই সিদ্ধান্ত এখন ভারতকেই নিতে হবে।
