নিউজ ডেস্ক | দিল্লি
ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত একটি সেমিনার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি পুলিশের আপত্তির কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে।
তবে সেমিনার বাতিলের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ সেটি বাতিল করার অধিকার রাখে।
তবে এই সেমিনার ঘিরে কী ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল কিংবা সেটিই অনুষ্ঠান বাতিলের মূল কারণ কি না—এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
দিল্লি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগের অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনায় শেখ হাসিনার বক্তব্য
সেমিনারটি বাতিলের ঘটনায় চলতি মাসের শুরুতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।
গত ৫ আগস্ট এফসিসির একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে নতুন কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার ওই ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। ফলে একই ধরনের আরেকটি আয়োজন নিয়ে ভারত নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি।
সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমানের মতে, সেমিনার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের উদ্বেগকে ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ভারত নতুন করে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি বলে মনে করেন তিনি।
কী এই এফসিসি?
‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ নয়াদিল্লিতে কর্মরত বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের একটি সংগঠন। গত ২৭ আগস্ট সংগঠনটির এক্স অ্যাকাউন্টে শনিবারের সেমিনারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশের আপত্তির কথা জানিয়ে আয়োজকরা সেটি বাতিল করে দেন।
অনুষ্ঠানটি কেন অনুমতি পায়নি বা পুলিশ ঠিক কী কারণে আপত্তি জানিয়েছিল—সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
