ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন/হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হবে ভারতের আদালতেই

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে না। এটি পুরোপুরি আদালতের আইনি বিচারালয়ে নিষ্পত্তি হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনি কাঠামোতেও অপরাধ হিসেবে গণ্য কি না। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা (সিপিভি) বিভাগ এবং আদালতের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আইনি জটিলতা ভারত-বাংলাদেশের ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্ৰম চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ অপরাধ হস্তান্তরের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:তবে হত্যা, নরহত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ১২টি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র যুক্ত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে সুরক্ষিত স্থানে (সেফ হাউস) অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলে নিজেকে ফিট রাখার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ভারতীয় আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আসা রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে দেওয়া হয়েছিল—এই যুক্তি সামনে এনে এটি চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

আমার সম্পর্কে

Freedom News BD