আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
তবে আইআরজিসির এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জর্ডানে ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তাদের এই মূল্যায়ন প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এবং হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। একই সময়ে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি শত্রুতাপূর্ণ ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ভূপাতিত করা হয় এবং তিনটি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়ে। বাহরাইনও জানিয়েছে, ইরানের কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসির আরও দাবি, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার কয়েকটি গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুন নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। কয়েকটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগা এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
তবে ইরাক বা যুক্তরাষ্ট্র—কেউই এরবিলে হামলার এসব দাবি নিশ্চিত করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতটি সাম্প্রতিক সময়ের আগে অনেকটা অর্থনৈতিক অচলাবস্থার দিকে গিয়েছিল। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালানোর পর ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির সম্ভাবনাকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করার অর্থ নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একাধিক সুযোগ দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আগে হওয়া একটি চুক্তিও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ভেঙে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
*তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
