**সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করায় চাচাকে কুপিয়ে হত্যা**
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ভাতিজার দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন কলিম উল্লাহ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কলিম উল্লাহ ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেলে কলিম উল্লাহর বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে তার আপন ভাতিজা জুবের আহমদ (১৮)। মেয়ের চিৎকার শুনে স্বজন ও আশপাশের লোকজন গিয়ে জুবেরকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আগামী বুধবার সন্ধ্যায় এক সালিশ বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করে জুবেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সালিশের আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এরই মধ্যে জুবেরের বাবা সয়ফুল্লাহ (৬০) তাড়াহুড়ো করে পাশের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে ছেলের বিয়ে ঠিক করেন এবং শুক্রবার রাতে আকদ সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় বিচারে সুরাহা না পেয়ে শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী কলিম উল্লাহ। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাঈমুল ও এএসআই অনুপ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যান। পুলিশ স্থান ত্যাগ করার পরপরই জুবের ও তার বাবা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে জুবের তার হাতে থাকা দা দিয়ে চাচার গলায় কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই কলিম উল্লাহর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করার জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সয়ফুল্লার অপর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। মূল অভিযুক্ত জুবেরসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
