ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় সখের বানু (৬৫) নামে এক নারীকে ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে এখলাচুর রহমানের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মায়ের পাশের ঘরেই গিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সখের বানু ওই এলাকার মৃত জেকের আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের সহায়তায় জীবিকা নির্বাহ করতেন সখের বানু। পাঁচ সন্তানের মধ্যে এখলাচুর রহমান ছিলেন সবার বড়।
একসময় ইটভাটার ট্রাক্টর চালাতেন এখলাচুর। পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে একপর্যায়ে কাজকর্মও ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চান এখলাচুর। তবে সখের বানু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতের কোনো একসময় ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন এখলাচুর।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এখলাচুরকে আটক করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
শ্যামকুড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, এখলাচুর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে বাবার সঙ্গেও তিনি মারধরের ঘটনায় জড়িয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, মায়ের কাছে নেশার টাকা না পেয়ে এখলাচুর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এখলাচুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
**— Freedom News BD**
