সীমান্তে ঢুকে কৃষকদের পেটাল বিএসএফ: পিটুনি খেয়ে শটগান-ওয়াকিটকি ফেলে পালালো জোয়ানরা
বিশেষ প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশি কৃষকদের মারধর ও তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় গ্রামীণ জনগণ ও কৃষকদের ধাওয়ায় বিএসএফের সদস্যরা নিজেদের অস্ত্র ও যোগাযোগের সরঞ্জাম ফেলেই ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে আমঝোল সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশি ভূখণ্ডে নিজ নিজ জমিতে কৃষকেরা কাজ করছিলেন। এ সময় ভারতীয় বিএসএফের টহল দলের কয়েকজন সদস্য অবৈধভাবে সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে। তারা সেখানে কর্মরত কৃষকদের ওপর অহেতুক চড়াও হয় এবং কোনো কারণ ছাড়াই মারধর শুরু করে।
কৃষকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি থাকা স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা একজোটে বিএসএফ সদস্যদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি দেখে বিএসএফ জোয়ানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা নিজেদের কাছে থাকা দুটি শটগান এবং একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে ভারতীয় সীমান্তে আশ্রয় নেয়।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দল দ্রুত আমঝোল সীমান্তে পৌঁছায়। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বিএসএফের ফেলে যাওয়া দুটি শটগান ও ওয়াকিটকিটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
এ বিষয়ে বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে বিজিবির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ওয়াকিটকির বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিনায়ক পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠকের (Flag Meeting) আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষ হলে ঘটনার মূল কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত এই অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনায় আমঝোল ও আশপাশের সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
