বড় যুদ্ধের বৈশ্বিক বার্তা: সামরিক চাহিদা মেটাতে আবারও সচল হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ডলফিন টাংস্টেন খনি

বড় যুদ্ধের বৈশ্বিক বার্তা: সামরিক চাহিদা মেটাতে আবারও সচল হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ডলফিন টাংস্টেন খনি বিশেষ প্রতিবেদন: বিশ্বজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আবহ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডের ঐতিহাসিক ডলফিন টাংস্টেন খনি। বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই খনিটি আন্তর্জাতিক বাজারে টাংস্টেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উৎপাদনে ফিরছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই পদক্ষপকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও সামরিক প্রস্তুতির এক বড় সংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক খনি ও যুদ্ধের সম্পর্ক কিং আইল্যান্ডের ডলফিন খনিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষমানের টাংস্টেন মজুত। বর্মভেদী গোলাবারুদ সামরিক যানবাহনের শক্তিশালী বর্ম এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য এই ধাতু অপরিহার্য। Group 6 Metals Limited খনিটির পরিচালনা ইতিহাসের বৈশ্বিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৭): অস্ত্রের প্রয়োজনে প্রথমবার চালু হয়, তবে ১৯২০ সালে যুদ্ধের পর চাহিদা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী সংঘাত: ১৯৩৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে এটি আবার সচল করা হয়। পরবর্তীতে কোরীয় ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটির উৎপাদন উঠানামা করে। স্নায়ুযুদ্ধ ও বন্ধ হওয়া: স্নায়ুযুদ্ধের সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় সচল থাকলেও ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নতুন বিনিয়োগ প্রায় তিন দশক বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি পুনরুজ্জীবনের কাজ শুরু হয়, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হয়। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে খনিটির ভূগর্ভস্থ অংশ থেকে আকরিক উত্তোলনের জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। চীন-নির্ভরতা হ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিশ্বে উৎপাদিত মোট টাংস্টেনের সিংহভাগ বর্তমানে চীনের দখলে। তাইওয়ান প্রণালীতে সম্ভাব্য সংঘাত এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এখন চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। সামরিক ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কাজাখস্তানের অনাবিষ্কৃত টাংস্টেন প্রকল্পে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপে চলমান সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের মজুত পুনরুদ্ধারে টাংস্টেন সংগ্রহ এখন মূল অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন খনি পুনরায় চালুর এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, বিশ্বশক্তিগুলো এখন সামরিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি মোকাবেলায় সম্পদ পুনরুদ্ধারে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

আমার সম্পর্কে

Freedom News BD