অন্যকে ফাঁসাতে সাড়ে ৩ বছরের মেয়েকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের সন্তানকে হত্যা: ১২ বছর পর বাবার মৃত্যুদণ্ড মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হীন উদ্দেশ্যে নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে শরীফ আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরীফ আলী কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভানুবিল গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামের নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল শরীফ আলীর সাড়ে তিন বছরের শিশু মেয়ে রুনা বেগম। গভীর রাতে নিজ হাতে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে পরম মমতা পাওয়ার বয়সে শিশুটিকে হত্যা করেন তার জন্মদাতা বাবা। ঘটনার পর নিহত শিশুর মা ও শরীফ আলীর স্ত্রী নেকজান বিবি বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে রহস্য উন্মোচনে নামে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে আসে এক নির্মম ও আঁতকে ওঠার মতো সত্য। পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় প্রতিবেশী সালেক মিয়ার সঙ্গে শরীফের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। সালেক মিয়াকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আজীবন জেলে রাখা বা তার ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নিজের নিষ্পাপ মেয়েকে বলি দেন এই পাষণ্ড বাবা। পরবর্তীতে পুলিশ শরীফ আলীকে গ্রেপ্তার করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরে বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজ হাতে কন্যাসন্তানকে হত্যার রোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চলা এই মামলার যাবতীয় শুনানি, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক অভিযুক্ত শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

আমার সম্পর্কে

Freedom News BD