১২ শিক্ষকের স্কুলে ১২ পরীক্ষার্থী, পাসের খাতায় শূন্য
রাজারহাটের তালতলা উচ্চবিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানটি থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে একা বসে থাকা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাধন কুমার রায় বলে, “আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা নিয়মিত আসেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসে না। একসময় ক্লাসে শিক্ষার্থী ভরা থাকত। এখন কারও বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ ঢাকায় কাজে গেছে।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, “মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে উপস্থিতি কমে গেছে। তা ছাড়া ভালো শিক্ষার্থীরা শহরের স্কুলে চলে যায়, ফলে শিক্ষার মান ধরে রাখা যাচ্ছে না।”
অন্য তিন স্কুলের চিত্র
ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয় (রাজারহাট): ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি থেকে এবার চারজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক না থাকা এবং বাল্যবিবাহের কারণে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ভালো ছিল না বলে জানান সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম।
পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় (সদর): এই বিদ্যালয় থেকে এবার মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু সে-ও অকৃতকার্য হয়েছে।
পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (ভূরুঙ্গামারী): ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০১২ সালে মাধ্যমিক অনুমতি পাওয়া এই নন-এমপিও বিদ্যালয়ে এবার চারজন পরীক্ষা দিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম বলেন, “শিক্ষকেরা বিনা বেতনে পাঠদান করছেন। তা ছাড়া বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের শিক্ষার আগ্রহ কমে যায়।”
বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর কুড়িগ্রাম থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। জেলায় পাসের হার ৫৬.৩৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
