ভারতে মুসলিম পর্যটকদের উপর হামলা রেহাই পায় নাই নারী ও শিশু

ছবি সংগৃহীত 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণিতে একটি মুসলিম পরিবারের ওপর রিসোর্ট কর্মীদের লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের বাসিন্দা এক পরিবারকে বয়স্ক, নারী ও শিশুসহ মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ আসিফ জানান, আত্মীয়দের নিয়ে ছোট সফরে মন্দারমণি গিয়েছিলেন তারা। সৈকত এলাকায় পৌঁছে একটি রিসোর্টের বাইরে গাড়ি পার্ক করে ঘরের খোঁজ নিতে ভেতরে যান। ঘর পছন্দ না হওয়ায় অন্য হোটেলে খোঁজ নিতে বেরিয়ে যান।

ফিরে এসে দেখেন রিসোর্টের নিরাপত্তা রক্ষী তাদের ড্রাইভারের সঙ্গে তর্ক করছেন এবং গাড়ি সরানোর চেষ্টা করছেন। এরপরই তর্কবিতর্ক শুরু হয়।


আসিফের অভিযোগ, "আমাদের গাড়িটি রাস্তায় পার্ক করা ছিল। সিকিউরিটি গার্ড প্রথমে সরাতে বললে আমি একটু এগিয়ে নিয়ে যাই। হঠাৎ সেই গার্ড ফিরে এসে লাঠি দিয়ে গাড়িতে মারতে শুরু করে। প্রতিবাদ জানালে তারা আমাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। আমার পরিবারের সদস্যরা বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।"

পরিবারের দাবি, রিসোর্ট ম্যানেজার ও অন্য কর্মীরা এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। এক নারী গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফুটেজে দেখা যায় কয়েকজন হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন, একজন প্রবীণ ব্যক্তি ও এক নারী মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন।

খবর পেয়ে মন্দারমণি উপকূল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নদীয়া জেলার বাদকুল্লার বাসিন্দা হোটেল ম্যানেজার ভাস্কর বিশ্বাস (৩৫) এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা নিরাপত্তা রক্ষী সুব্রত ঘোষ (৪৫)। রবিবার তাদের আদালতে তোলা হয়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতি। সমিতির সম্পাদক অশোক আদাক বলেন, "যা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পর্যটকরা আমাদের অতিথি, তাদের ওপর হামলা চালানো সম্পূর্ণ ভুল। সমিতির প্রতিনিধিরা হোটেল পরিদর্শন করেছেন। আমরা হোটেলটিকে শো-কজ নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

মন্দারমণি কলকাতা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। একটি গোটা পর্যটক পরিবারের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

আমাদের সম্পর্কে

Freedom News BD

অনুসরণকারী