বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারে একপাশে নতুন রঙের চকমকে ছোঁয়া, অথচ অন্যপাশ ঢেকে আছে ধুলোবালি আর মলিনতায়। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে কেবল তাঁর চলাচলের পাশের সড়কটুকুই তাড়াহুড়ো করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আজ সোমবার সকাল থেকে সড়কের অপর পাশটিতেও রঙ করার কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
গতকাল চট্টগ্রাম সফরে এসে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু বে ভিউতে এক সভায় যোগ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর যে পাশ দিয়ে গেছে, কেবল সেই পাশেই পরিচ্ছন্নতা ও রঙ লাগানোর তড়িঘড়ি দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আজ সকালে সরেজমিনে অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের একপাশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পুরো ১২ কিলোমিটার জুড়েই ডিভাইডারে তাজা রঙ। অন্যদিকে বিপরীত পাশের সড়কে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা, ডিভাইডারও উস্কোখুস্কো। তবে আজ সকাল থেকে অক্সিজেন মোড় এলাকা থেকে অপর পাশে রঙ করার কাজ শুরু করেছেন সওজ-এর শ্রমিকরা।
নগরের চৌধুরী হাটের বাসিন্দা কাজী নুরুল আজম আফসোস করে বলেন, “নিয়মিত এই সড়কে যাতায়াত করি। গতকাল দেখলাম ডিভাইডারের এক পাশে রঙ করা হয়েছে, অন্য পাশ পড়ে আছে। দুই পাশে একসাথে রঙ করলে তো দেখতে সুন্দর লাগত।”
বালুচরা এলাকার বাসিন্দা মনসুর আলমের অভিযোগ আরও কড়া, “প্রধানমন্ত্রী যেদিক দিয়ে যাবেন শুধু সেদিকটাই রঙ করা হয়েছে। এটা স্রেফ উর্ধ্বতনদের দেখানোর জন্য করা লোকদেখানো কাজ। দুই পাশে কাজ না করে বরাদ্দের টাকা লোপাট করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
তবে লোকদেখানো বা সমালোচনার কারণে কাজ শুরু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সওজ উপসহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস জানান, “আমরা সফরসূচির ২-৩ দিন আগেই কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিসহ নানা সমস্যার কারণে এক পাশ শেষ করতেই সময় লেগে যায়। ফেসবুকের ভিডিওর সাথে অপর পাশের কাজ শুরু করার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট থেকেই করা হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরীও এটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ দাবি করে বলেন, “আমরা প্রায় এক মাস আগে থেকেই এই সড়কের জঙ্গল ও ব্রিজ-কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি। কোনো ভাইরাল ভিডিও দেখে হঠাৎ কাজ শুরু হয়নি, পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে ১২ কিলোমিটার সড়কের এত কাজ এত দ্রুত করা সম্ভব হতো না।”
একই বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, বিষয়টি নিয়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এতদিন অপর পাশে কাজ বন্ধ থাকলেও আজ সকাল থেকে পুরো সড়ক জুড়ে পুরোদমে রঙ ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। সওজের দাবি অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সড়কের উভয় পাশের সৌন্দর্যবর্ধন শেষ হবে।
