দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে হত্যা, লাশের ১১ প্যাকেট উদ্ধার
স্বর্ণালংকারের লোভে হত্যার অভিযোগ; ভাড়াটিয়া নারী আটক, আরও তিন আসামি পলাতক
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬,
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক বাড়ির মালিককে হত্যার পর তাঁর লাশ খণ্ডিত করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে লাশের বিভিন্ন অংশের ১১টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর স্বামী চট্টগ্রামে একটি জাহাজে চাকরি করেন। ফরিদা প্রায় ৩০ বছর ধরে দেবিদ্বারের ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভুঁইয়া হাউজে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন লাইলী
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে ফরিদার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন লাইলী আক্তার। এরপর তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে।
পরিবারের অভিযোগ, লাইলী কৌশলে ফরিদার ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে তথ্য নেন।
শুক্রবার রাতে লাইলী তাঁর স্বামী আবুল কালাম এবং রবিউল ও সোহেল নামে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে লাশ খণ্ডিত করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা লাইলীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে মারধর করেছে বলেও জানা গেছে।
সাত লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ
নিহতের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তারের দাবি, তাঁর মাকে হত্যার পর ঘাতকরা বাড়ি থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
শনিবার রাতে নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগেও শিশু হত্যা মামলায় আসামি ছিলেন লাইলী
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায়ও লাইলী আক্তারের নাম আসে। ওই ঘটনায় লাইলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান বলে পুলিশ জানায়।
দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালের শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় জড়িত ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর প্রায় ১২ দিন আগে তিনি ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণালংকারের লোভে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রোববার দেবিদ্বারে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তদন্ত চলছে।
নোট: মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
