লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ও খাবার-পানির অভাবে অন্তত ১১ জন অভিবাসনপ্রার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘ ১১ দিন ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে নৌকার প্রায় ৩০ জন আরোহীকে উদ্ধার করা হয়।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন:
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
যাত্রার শুরু:গত ৩ আগস্ট লিবিয়া উপকূল থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে কাঠের নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ:মাঝসাগরে পৌঁছানোর পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে পড়ে।
সাগরে আটকে পড়া: তীব্র রোদ, খাদ্য ও পানের পানির সংকটে ভাসমান অবস্থায় নৌকায় ১১ দিন অতিবাহিত হয়।
উদ্ধার: ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে ভাসমান অবস্থা থেকে জীবিত প্রায় ৩০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশিদের হতাহতের চিত্র
উদ্ধার পাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল করিম জানান, সাগরে অনাহারে ও তৃষ্ণায় মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে অন্তত ৯ জনই বাংলাদেশি। তবে মিশরীয় পুলিশ কিংবা দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুর এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকজন যুবকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্বজনরা তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা
ঘটনার খবর পাওয়ার পর মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থা, আইনি সহায়তা এবং নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
