ধামরাইয়ে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত 


নিজস্ব প্রতিনিধি : ফ্রীডম নিউজ বিডি ২৪


প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর ২২৬

ধামরাই (ঢাকা): জমি দখল, ব্যবসায় জোরপূর্বক অংশীদারিত্ব দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড করছেন। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে রবিন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধামরাইয়ের একাধিক এলাকায় জমি ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে রবিনের নাম জড়িয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কর্মকর্তার জমিতে সাইনবোর্ড বিরোধ

বড় চান্দ্রাইল মৌজার ৩৩০ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর সদস্য মো. আরিফুর রহমান। তার দাবি, ২০০৮ সালে আব্দুর রশিদের কাছ থেকে জমিটি কিনে খাজনা-খারিজ ও নামজারি করে ভোগদখলে রয়েছেন।

সম্প্রতি তার সাইনবোর্ডের ওপর রবিন আরেকটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন। শুনানি শেষে কাগজপত্র জমা দিলেও এখনও সমাধান পাননি।

আরিফুরের আরও অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বলা হয়, ‘ওই সাইনবোর্ডে হাত দিলে ফিরে যেতে পারবে না, গুলি করে মেরে ফেলা হবে।’ এ ঘটনায় ইউএনওর পরামর্শে তিনি থানায় জিডি করেছেন। তবে ওই ফোনকলের সঙ্গে রবিনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

১৯৭০ সালে কেনা জমি নিয়ে টানাটানি

আরেক ভুক্তভোগী কামরুল হাসান সোহেল জানান, তার বাবা ১৯৭০ সালে নেসাহা খাতুনের কাছ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশ জমি কেনেন। দীর্ঘদিন ভোগদখলের পর জানতে পারেন, নেসাহার দুই ছেলে কথিত অংশ রবিনের কাছে বিক্রি করেছেন।

কামরুলের দাবি, ২০২৩-২৪ সালে নেসাহার ৮ ওয়ারিশ কনফার্মেশন ডিড করে তাদের কাছে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রবিন জমিতে বালি ফেলা ও সাইনবোর্ড লাগাতে বাধা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে রবিন বলেন, কাগজপত্র যাচাই করেই তিনি ৫ লাখ টাকায় জমিটি বায়না করেছেন। তার প্রশ্ন, ‘আমি ছাত্রদল করি বলে কি বৈধ ব্যবসা করতে পারব না? আমার তো ফ্যামিলি আছে।’ জমির বিক্রেতা রমজান আলীও দাবি করেন, টাকার প্রয়োজনে তিনি নিজেই রবিনের কাছে জমি বিক্রি করেছেন।

বাড়িতে গিয়ে হুমকির ভিডিও ভাইরাল

ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও গত ১৪ আগস্ট রবিনের ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আরামেই থাকতে চাইয়েন... নাইলে বাড়ির ইট সুদ্ধা থাকব না।’

রবিনের দাবি, সাদ্দাম ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অর্থায়ন করেছেন - এমন খবরে তাকে সতর্ক করতে গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে সাদ্দামের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে রাজনৈতিক মামলায় ৩ মাস জেলে থাকতে হয়েছে। জামিনে বেরিয়েও তিনি হুমকির মুখে আছেন।

বালুর গদিতে ৫০ শতাংশ ভাগ দাবি

ইসলামপুরে ‘আব্দুল আজিজ ট্রেডিং’ নামে বালুর ব্যবসা করেন মোস্তফা সাইদুজ্জামান। তার অভিযোগ, গত ৭ জুলাই রাতে রবিন তার গদিতে গিয়ে ৫০ শতাংশ অংশ দাবি করেন। না দিলে ‘আস্ত পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই তিনি ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সাংগঠনিক ব্যবস্থা

এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর গত ১২ সেপ্টেম্বর রবিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্মের সুযোগ নেই। তদন্ত শেষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, জমি ও সাইনবোর্ড নিয়ে একটি অভিযোগ এসেছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, ‘কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

Post a Comment

0 Comments