 |
| ছবি সংগৃহীত |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক । ফ্রিডম নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে খারাপ মন্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ai দিয়ে তৈরি বিতর্কিত ছবি শেয়ার করার অভিযোগে সৌদি আরবে এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম শিবারাসা অনোজন, যিনি শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় নারপিট্টিমুনাই এলাকার একজন তামিল নাগরিক। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৯ মাস আগে তিনি সৌদি আরবে জান তিনি । আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'মুসলিম মিরর' এবং শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ফেসবুকে একটি চলমান ধর্মীয় বিতর্কের সময় শিবারাসা অনোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নির্মিত একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফকে একটি হিন্দু মন্দির হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। একই সাথে তিনি মহানবী (সা.)-কে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে এই পোস্টটি আরবিতে অনুবাদ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে অনোজনের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটি কোনো ইচ্ছাকৃত ঘটনা ছিল না, বরং রাগের মাথায় তাৎক্ষণিকভাবে করা হয়েছিল। পোস্ট করার ১০ মিনিটের মধ্যেই অনোজন সেটি ডিলিট করে দিয়েছিলেন বলেও আদালতে জানান।
তা সত্ত্বেও, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে সৌদির আল-আহসা ফৌজদারি আদালত দেশটির সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় অনোজনকে প্রথম দফায় ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেন। পরবর্তীতে অনোজন এই সাজা কমানোর জন্য আপিল করেন। তবে উল্টো রাষ্ট্রপক্ষের কৌশনিরা শরিয়াহ আইনের অধীনে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আপিল করলে উচ্চ আদালত আগের রায় বাতিল করে অনোজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডের এই রায় ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের নাগরিককে বাঁচাতে আইনি ও কূটনৈতিক সর্ব স্তরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানিয়েছেন, দেশটির সংসদের ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তারা সৌদি বাদশাহর কাছে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমার আবেদন (Clemency Petition) পৌঁছে দেবেন।
ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে কলম্বোয় অনোজনের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সরকার অনোজনের সমস্ত আইনি লড়াইয়ের খরচ বহন করবে এবং এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে হওয়া খরচের অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে অনোজনের জীবন রক্ষার্থে শ্রীলঙ্কার ৫টি প্রধান সাংবাদিক সংগঠন মানবিক দিক বিবেচনা করে সৌদি রাজপরিবার ও সরকারের কাছে বিশেষ ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এই ঘটনাকে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরবে, ধর্ম অবমাননা ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় সামান্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও যে কতটা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
0 Comments