 |
| ছবি সংগৃহীত |
কুমিল্লা প্রতিনিধি: ফ্রীডম নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
"আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে? আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অপরাধ ?"
ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এভাবেই আহাজারি করছিলেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাসা ফেরেনি অপ্রতিম। পরিবার খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ।
খবর পেয়ে শনিবার অপ্রতিমের বাসায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম।
তিনি বলেন, "আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর জবাব দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অপরাধ করেছে। তার কী অপরাধ ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশে বসবাস করি? আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার সারা জীবন কাটাবো?"
মায়ের এমন আহাজারি শুনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, "এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।"
অপ্রতিমের বাবা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে এসে ছেলেকে খাইয়েছিলেন তিনি নিজ হাতে। ছেলেকে বলেছিলেন আজ একসাথে মুভি দেখবেন, মুভি শেষে গিফট ও দেবেন। কিন্তু অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাইরে যেতে বায়না ধরে। এরপর সে বের হয়ে যায়।
বাবা বলেন, "আমাদের একটাই ছেলে। অপরাধ করলে ওরে মেরে ফেল, সে অপরাধ করে নাই। ওর ফোন নিয়ে নেওয়ার জন্য ওকে মেরে ফেললো, এটা কী হলো?"
এদিকে ঘটনাস্থলে আসেন কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুল মানুষ।লাশ থেক্ব আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, "আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।" এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
0 Comments